(১৭৫৫-১৮৪৩ খ্রিঃ)
বন্ধু এবং সুধিবৃন্দ, আমরা যারা হোমিওপ্যাথির সাথে জড়িত,যেমন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, শিক্ষক, ছাত্র ও হোমিওপ্যাথি অনুরাগী, হোমিপ্যাথি নিয়ে যারা গর্ববোধ করি এমনকি যারা সমালোচনা করি তাদের সবারই উচিত হানেমানের জীবন ও কর্ম থেকে বাস্তব শিক্ষা নেয়ার জন্যে এ বিষয়ে গভীরভাবে অধ্যয়ন করা।
ডাঃ হানেমানে জীবন ছিল অধ্যয়ন, প্রগতিশীলতা, সত্যানুসন্ধান এবং আদর্শ ও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দারিদ্র্য ও প্রতিকূল পরিবেশে কঠোর আত্মবিশ্বাসযুক্ত পরিশ্রম, পর্যবেক্ষণ ও অধ্যবসায়ময় অবিচল সংগ্রাম ও এতে সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এ সম্পর্কে আলোচনার প্রথমেই "হানেমান পরিবার" সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হল।
হানেম্যান পরিবার:
"হ্যানিম্যান" বা "হানেমান" একটা পারিবারিক পদবী। ইংরেজি "হ্যানিম্যান (Hahnemann)" শব্দটার জার্মান উচ্চারণ হচ্ছে "হানেমান"।ডাঃ হানেমানের পুরোনাম- চাঃ ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেড্রিক স্যামুয়েল হানেমান (Christian Friedrich Samuel Hahnemann)
হানেমানের পিতামহের নাম ক্রিস্টফ হানেম্যান (Christoph Hasin তিনি জার্মানির লচেস্টেডে রং-তুলির কাজ করতেন। তাঁর পিতা ক্রিশ্চিয়ান গটফ্রায়েড হানেমান (Christian Gottfried Hahnemann) ছিলেন একজন গুণবান ও চিন্তাশীল ব্যক্তি। তিনি জার্মানির মিশেনে পটেরী ফ্যাক্টরীতে চীনামাটির পাত্রে রং-তুলির কাজের একজন দক্ষ শিল্পী ছিলেন। তাঁর উপদেশকে অনুসরণ করেই ডাঃ
হানেমান যে কোন বিষয়ের জ্ঞানকে পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ করে জীবনে অশেষ সাফল্য লাভ করেন। পিতার উপদেশ এবং শিক্ষকদের উৎসাহ ও সহযোগিতা হানেমানের শিক্ষা ও কর্মজীবনে সীমাহীন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
হানেমানের মা জোহনা ক্রিশ্চিয়ানা (Johonna Christiana) ছিলেন তাঁর পিতার দ্বিতীয়া স্ত্রী। তাঁর গর্ভে অগাস্ট হানেমান (August Hahnemann), চার্জোটি হানেমান (Charlotee Hahnemann), ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেড্রিক স্যামুয়েল হানেমান (Christian Friedrich Samuel Hahnemann) ও মিনা হানেমান (Minna Hahnemann) নামে-হানেমান এবং তাঁর এক ভাই ও দু' বোনের জন্ম হয়।
ডাঃ ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেড্রিক স্যামুয়েল হানেমান দু'বার বিবাহ করেন। জার্মানির গোমেরনে থাকার সময় তিনি প্রায় ২৮ বছর বয়সে ১৯ বছরের জোহনা হেনরিয়েটি লিওপোলডিনি কুসলার [Johnn (Johanne) Henriette Leopoldine Kuchler]-কে ১৭৮২ সালের ১৭ই নভেম্বর (মতান্তরে ১লা ডিসেম্বর। বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন হানেমানের দুঃখ-দারিদ্র্য, নিপীড়িত ও যাযাবর জীবনের সুযোগ্যা সহধর্মিণী। ১৮৩০ সালের ৩১শে মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়। হানেমান প্রায় ৮০ বছর বয়সে ১৮৩৫ সালের ১৮ই জানুয়ারি জার্মানির কোথেনে অবস্থানের সময় মাদাম মেরি মেলানী ডি. হারভিলী (Merie Melanie D' Hervilly) নামের ৩২ বছর বয়সী এক ফরাসি মহিলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী,ধনবতী, বিশিষ্ট চিত্রকর ও নামকরা কবি। হানেমানের জীবনের চরম সাফল্যের দিনগুলোতে তিনি সুযোগ্যা সহধর্মিণী হিসেবে যথেষ্ট অবদান রাখেন। শেষ জীবনে তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন। হানেমানের চিকিৎসার কাজেও তিনি সহযোগিতা করতেন। তবে হানেমানের মৃত্যুর পর হানেমানের অর্গ্যানন অভ্ মেডিসিন (৬ষ্ঠ সংস্করণ) বইয়ের পান্ডুলিপি, পত্রাবলি ও রোগীলিপি বই প্রকাশের জন্যে তিনি প্রকাশকদের কাছে খুব
বেশি পরিমাণ অর্থ (৫০ হাজার ডলার) দাবি করেছিলেন। একারণে, এগুলো তাঁর মৃত্যুর (১৮৭৮ খ্রিঃ) পূর্বে পর্যন্ত উদ্ধার করে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য ফ্রান্স-পুশিয়ার যুদ্ধ, জার্মানির গৃহযুদ্ধ, হানেমানের প্রতিপক্ষদের (ডাঃ ট্রিংকস ও অন্যান্যদের) বিরোধিতা এবং উপরিউক্ত পাণ্ডুলিপিগুলো (বিশেষত, অর্গ্যাননের ৬ষ্ঠ সংস্করণ) প্রকাশনার কাজ মেলানীর নিজ দায়িত্বে করার জন্যে হানেমানের পূর্ব নির্দেশ থাকা ইত্যাদি কারণেও উত্ত প্রকাশনার কাজে বিলম্ব (১৯২১ খ্রিঃ পর্যন্ত) হয়েছিল। এসব বিভিন্ন কারণে প্রকাশনায় এ বিলম্ব ঘটায় হোমিওপ্যাথি জগতের অশেষ ক্ষতি ও বিভান্তির সৃষ্টি হয়। আর এজন্যে কেউ কেউ মাদাম মেলানীকেই কমবেশি দায়ী করে থাকেন। কিন্তু ওপরে বর্ণিত বিভিন্ন প্রাসংগিক ঘটনাজনিত বিলম্পের জন্যে, এবিষয়ে তাঁকে সম্পূর্ণ দায়ী বলা যায় না। হানেমানের সংসার ও কর্মজীবনের সাফল্যের মূলে তাঁর সহধর্মিণীগণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এজন্যে হানেমান তাঁর বিভিন্ন লেখায় তাঁদের অশেষ প্রশংসা করেন। মাদাম মেলানী নিঃসন্তান ছিলেন। কিন্তু হানেমানের মৃত্যুর কিছু পূর্বে হানেমানের বিশেষ অনুরোধে সোফি বোরার (Sophie Bohrer) নামে পাঁচ বছরের এক মেয়েকে মেলানী তাঁর পালিতা মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে সোফি-এর সাথে প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথ ডাঃ ব্যারণ ফন বোনিৎহৌসেনের বড় ছেলে বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথ ডাঃ ক্যারণ বোনিংহৌসেনের বিয়ে হয়। মেলানীর মৃত্যুর পর তিনি হানেমানের অপ্রকাশিত রচনাবলি সংরক্ষণ ও অর্গ্যানন অভ মেডিসিন (৬ষ্ঠ সংস্করণ) প্রকাশের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে তাতে তিনি সফল হননি। ১৮৯৯ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি সোফি বোরারের মৃত্যু হয়। জোহনা হেনরিয়েটির গর্ভে হানেমানের দু'ছেলে ও নয় মেয়ের জন্ম হয়।
তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং হনেমানের জীবনীর বাকি অংশ সামনের পর্বব গুলোতে আলোচনার ইচ্ছে রেখা আজকে এই পর্যন্তই, সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন
(বিঃ দ্রঃ এই পেজের বিজ্ঞাপন সুমহের দায় দায়িত্ব সম্পুর্ণ বিজ্ঞাপন দাতা প্রতিষ্ঠান সূমহের এর সাথে লেখক অথবা প্রকাশকের কোন সম্পর্ক নেই)
